Laxmi Chalisa Bengali

লক্ষ্মী চালীসা (Laxmi Chalisa Bengali): সম্পূর্ণ লিরিক্স, অর্থ এবং পাঠের অলৌকিক লাভ

ভূমিকা: ওঁ শ্রী মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ… হিন্দু ধর্মে দেবী লক্ষ্মী হলেন ধন, ঐশ্বর্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক। শাস্ত্র মতে, মা লক্ষ্মী চঞ্চলা, কিন্তু যারা ভক্তিভরে নিয়মিত ‘লক্ষ্মী চালীসা’ পাঠ করেন, মা তাদের গৃহে স্থির হয়ে বিরাজ করেন। এই চালীসা পাঠের মাধ্যমে জীবনের আর্থিক অনটন দূর হয় এবং ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

আজ Pujapath.net-এর এই বিশেষ নিবন্ধে আমরা লক্ষ্মী চালীসার সম্পূর্ণ লিরিক্স বাংলায় প্রদান করছি এবং এটি পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।


১. লক্ষ্মী চালীসার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব (Significance)

লক্ষ্মী চালীসা হল মা লক্ষ্মীর গুণগান ও মহিমা সম্বলিত একটি পবিত্র স্তোত্র। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, যাঁদের ব্যবসায় বারবার লোকসান হচ্ছে বা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করা পরম ঔষধের মতো কাজ করে। এটি পাঠ করলে মনের নেতিবাচক চিন্তা দূর হয় এবং ঘরে পজিটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায়।


২. শ্রী লক্ষ্মী চালীসা লিরিক্স (Laxmi Chalisa Lyrics in Bengali)

ভক্তগণ, মা লক্ষ্মীর শ্রীচরণ ধ্যান করে শুদ্ধচিত্তে এই চালীসা পাঠ করুন:

।। দোহা।।


মাতু লক্ষ্মী করি কৃপা, করো হৃদয় মেঁ বাস।

মনোকামনা সিদ্ধ করি, পুরবহু মেরী আস । ।

।। সোৱঠা।।


য়হী মোর অরদাস, হাত জোড় বিনতী করু।
সববিধি করৌ সুবাস, জয় জননি জগদম্বিকা।।

|| চৌপাঈ ||


সিন্ধু সুতা মে্যঁ সুমিরো তোহী।
জ্ঞান বুদ্ধি বিদ্যা দে মোহী।।

তুম সমান নহী কোই উপকারী।
সব বিধি পুরবহু আস হমারী।।

জয় জয় জয় জননী জগদম্বা।
সবকী তুম হী হো অবলম্বা।।

তুম হো সব ঘট ঘট কে বাসী।
বিনতী য়হী হমারী খাসী।।

জগ জননী জয় সিন্ধুকুমারী।
দীনন কী তুম হো হিতকারী।।

বিনবোঁ নিত্য তুমহি মহারানী।
কৃপা করো জগ জননি ভবানী।।

কেহি বিধি স্তুতি করোঁ তিহারী।
সুধি লীজৈ অপরাধ বিসারী।।

কৃপা দৃষ্টি চিতবো মম ওরী।
জগ জননী বিনতী সুন মোরী।।

জ্ঞান বুদ্ধি সব সুখ কা দাতা।
সংকট হরো হমারী মাতা।।

ক্ষীর সিন্ধু জব বিষ্ণু মথায়ো।
চৌদহ রত্ন সিন্ধু মেঁ পায়ো।।

চৌদহ রত্ন মেঁ তুম সুখরাসী।
সেবা কিয়ো প্ৰভু বনদাসী।।

জো জো জন্ম প্রভু জহাঁ লীনা।
রূপ বদল তহঁ সেবা কীনহা৷৷

স্বয়ঁ বিষ্ণু জব নরতনু ধারা।
লীনহেউ অবধপুরী অবতারা।।

তব তুম প্রগট জনকপুর মাহী।
সেবা কিয়ো হৃদয় পুলকাহী।।

অপনায়ো তোহি অন্তর্যামী।
বিশ্ব বিদিত ত্রিভুবন কে স্বামী।।

তুম সম প্রবল শক্তি নহিঁ আনি।
কহু লোঁ মহিমা কহোঁ বখানী।।

মন ক্রম বচন করে সেবকাই।
মন ইচ্ছিত বাঁছিত ফল পাই।।

তজি ছল কপট ঔর চতুরাই।
পূজহি বিবিধ মনলাই।।

ঔর হাল ম্যাঁ কহোঁ বুঝাই।
জো য়হ পাঠ করৌ মন লাই।।

তাকো কোই কষ্ট ন হোই।
মন ইচ্ছিত পাবৈ ফল সোই।।

ত্রাহি ত্রাহি জয় দুখ নিবারিণী।
তাপভব বন্ধন হারিণী।।

জো য়হ পঢ়ে ঔর পঢ়াবে।
ধ্যান লগাকর সুনৈ সনাবৈ।।

তাকো কোই না রোগ সতাবে।
পুত্র আদি ধন সুম্পত্তি পাবে।।

পুত্রহীন অরু সম্পতিহীনা।
অন্ধ বধির কোটী অতি দীনা।।

বিপ্র বোলায় কে পাঠ করাবে।
শংকা দিল মেঁ কভী না লাবৈ।।

পাঠ করাবৈ দিন চালীসা।
তাপর কৃপা কেঁ গৌরীসা।।

সুখ সম্পতি বহুত সো পাবৈ।
কর্মী নহী কাহু কী আবৈ ।।

বারহ মাস করে সো পূজা।
তেহি সম ধন্য ঔর নহি দূজা।।

প্রতিদিন পাঠ করে মনমাহী।
ঊন সম কোই জগ মেঁ কহু নাহী।।

বহুবিধি ক্যা ম্যাঁ করোঁ বড়াই।
লেয় পরীক্ষা ধ্যান লগাই।।

করি বিশ্বাস করে ব্রত নেমা।
হোয় সিদ্ধ উপজৈ উর প্রেমা।।

জয় জয় জয় লক্ষ্মী ভবানী।

সব মেঁ ব্যাপিত হো গুণখানী।।

তুমহারো তেজ প্রবল জগ মাহী।
তুম সমকোউ দয়ালু কহু নাহি।।

মোহি অনাথ কী সুধ অব লীজৈ।
সংকট কাটি ভক্তি মোহি দীজৈ।।

ভূল চূক করি ক্ষমা হমারী।
দর্শন দীজৈ দশা নিহারী।।

কেহ প্রকার ম্যাঁয় করোঁ বড়াই।
জ্ঞান বুদ্ধি মোহি নহিঁ অধিকাই।।

বিন দর্শন ব্যাকুল অধিকারী।
তুমহি অছত দুখ সহতে ভারী।।

নহি মোহি জ্ঞান বুদ্ধি হ্যায় মম মেঁ।
সব জানত হো অপনে মন মেঁ।।

রূপ চতুর্ভুজ করকে ধারণ।
কষ্ট মোর অব করহু নিবারণ।।

৷৷ দোহা ।।


ত্রাহি ত্রাহি দুখ হারিণী, হরো বেগি সব ত্রাস।
জয়তি জয়তি জয় লক্ষ্মী, করো দুম্মন কা নাশ।।
রামদাস ধরি ধ্যান নিত, বিনয় করত কর জোর।
মাতু লক্ষ্মী দাস পৈ, করহু দয়া কী কোর।।

৩. লক্ষ্মী চালীসা পাঠের সঠিক বিধি (Puja Vidhi)

মা লক্ষ্মী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা খুব পছন্দ করেন। সঠিক ফল পেতে নিচের নিয়মগুলি অনুসরণ করুন:

১. শুভ সময়: লক্ষ্মী চালীসা পাঠের সবচেয়ে উত্তম সময় হল বৃহস্পতিবার এবং প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে এটি পাঠ করা অত্যন্ত শুভ। ২. শুদ্ধিকরণ: পাঠ করার আগে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন। সম্ভব হলে লাল বা হলুদ রঙের পোশাক পরুন। ৩. আসন: একটি পরিষ্কার আসনে উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসুন। ৪. স্থাপন: মা লক্ষ্মীর মূর্তির সামনে ঘি-এর প্রদীপ এবং ধূপ জ্বালান। মায়ের সামনে কয়েকটি কড়ি বা একটি পদ্মফুল রাখা অত্যন্ত ফলদায়ক। ৫. ভোগ: মাকে সাদা মিষ্টি, বাতাসা বা ফল ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন।


💡 সম্পর্কিত নিবন্ধ: এগুলোও অবশ্যই পড়ুন


৪. লক্ষ্মী চালীসা পাঠের ১৫+ অলৌকিক লাভ (Benefits)

নিয়মিত শ্রদ্ধাভরে মা লক্ষ্মীর চালীসা পাঠ করলে নিম্নলিখিত ফল লাভ হয়:

১. আর্থিক উন্নতি: আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয় এবং সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়। ২. দারিদ্র্য মুক্তি: পুরনো ঋণ বা ধারের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৩. ব্যবসা ও চাকরিতে উন্নতি: ব্যবসায় লাভের মুখ দেখা যায় এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান বৃদ্ধি পায়। ৪. পারিবারিক শান্তি: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ দূর হয় এবং ভালোবাসা বাড়ে। ৫. স্থায়ী সুখ: ঘরে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ স্থায়ীভাবে বজায় থাকে। ৬. শুক্র গ্রহের শুভ প্রভাব: দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। ৭. মানসিক প্রশান্তি: দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি মেলে। ৮. বাস্তু দোষ নিবারণ: ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে শুভ পরিবেশ তৈরি হয়। ৯. সন্তান সুখ: সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। ১০. দুর্ভাগ্য নাশ: ভাগ্যের উন্নতি ঘটে এবং আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হয়। ১১. মনের ইচ্ছা পূরণ: মা লক্ষ্মী ভক্তের সকল ন্যায্য বাসনা পূর্ণ করেন। ১২. অকাল মৃত্যু ভয় নাশ: মায়ের আশীর্বাদে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ১৩. সামাজিক সম্মান: সমাজে প্রতিপত্তি ও মান-যশ বৃদ্ধি পায়। ১৪. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: যেকোনো কঠিন কাজ করার মানসিক শক্তি পাওয়া যায়। ১৫. শ্রী বৃদ্ধি: ব্যক্তির চেহারায় ও ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ জ্যোতি ও শ্রী ফুটে ওঠে।


৫. পাঠের সময় কী করবেন না? (Don’ts)

  • অশুচিতা: স্নান না করে বা অপরিষ্কার অবস্থায় পাঠ করবেন না।

  • বিবাদ: বাড়িতে বড়দের অসম্মান বা ঝগড়া করবেন না, কারণ অশান্ত বাড়িতে লক্ষ্মী থাকেন না।

  • অন্ধকার: সন্ধ্যায় ঘর অন্ধকার করে রাখবেন না, এতে অলক্ষ্মীর প্রবেশ ঘটে।


৬. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন ১. মহিলারা কি পিরিয়ডের সময় এটি পাঠ করতে পারেন? না, হিন্দু রীতি অনুযায়ী এই সময় পূজা-অর্চনা বা চালীসা পাঠ বর্জন করাই শ্রেয়। তবে মনে মনে মা-কে স্মরণ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ২. লক্ষ্মী চালীসা কি বাংলা বা হিন্দী যেকোনো ভাষায় পাঠ করা যায়? হ্যাঁ, ভক্তিই শেষ কথা। আপনি নিজের মাতৃভাষায় ভক্তিভরে পাঠ করলে সমপরিমাণ ফল পাবেন।

প্রশ্ন ৩. চালীসা পাঠের পর কী করা উচিত? পাঠ শেষে মায়ের আরতি করুন এবং সেই প্রসাদ পরিবারের সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিন।


৭. বিশেষ পরামর্শ

বিশেষ পরামর্শ: লক্ষ্মী চালীসা পাঠ করার পর সম্ভব হলে মা লক্ষ্মীর ১০৮টি নাম জপ করুন। শুক্রবার রাতে ঘি-এর প্রদীপে সামান্য কর্পূর দিয়ে আরতি করলে অর্থের অভাব দ্রুত দূর হয়। মনে রাখবেন, মা লক্ষ্মী সেই গৃহেই থাকেন যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নারীজাতির সম্মান বজায় রাখা হয়।


৮. উপসংহার

শ্রী লক্ষ্মী চালীসা কেবল একটি স্তোত্র নয়, এটি মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম। আপনার বিশ্বাস ও পরিশ্রম যত দৃঢ় হবে, মায়ের কৃপা তত দ্রুত আপনার জীবনে প্রতিফলিত হবে।

আশা করি Pujapath.net-এর এই তথ্য আপনার জীবনকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে তুলবে। কমেন্টে “জয় মা লক্ষ্মী” লিখতে ভুলবেন না!