Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali

শ্রী হনুমান চালীসা (Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali): অর্থ, গুরুত্ব এবং পাঠের সঠিক নিয়ম

ভূমিকা: জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর… জয় শ্রী রাম! জয় বজরংবলী! হিন্দু ধর্মে মহাবীর হনুমান হলেন শক্তি, সাহস এবং ভক্তির প্রতীক। গোস্বামী তুলসীদাস রচিত ‘হনুমান চালীসা’ কেবল একটি স্তোত্র নয়, এটি একটি মহা-মন্ত্র যা কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। বলা হয়, যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে হনুমান চালীসা পাঠ করেন, তাঁর জীবনের সমস্ত ভয়, বাধা এবং অমঙ্গল দূর হয়ে যায়।

আজ Pujapath.net-এর এই বিশেষ নিবন্ধে আমরা হনুমান চালীসার সম্পূর্ণ লিরিক্স বাংলায় প্রদান করছি এবং এর পাঠ থেকে পাওয়া অলৌকিক লাভ ও নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করব।


১. শ্রী হনুমান চালীসা লিরিক্স (Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali)

 

দোহা

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ।
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ॥
বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥

ধ্যানম্

গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ।
রামাযণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ ।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥

চৌপাঈ

জয হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর ।
জয কপীশ তিহু লোক উজাগর ॥ 1 ॥

রামদূত অতুলিত বলধামা ।
অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ॥ 2 ॥

মহাবীর বিক্রম বজরংগী ।
কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ॥3 ॥

কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা ।
কানন কুংডল কুংচিত কেশা ॥ 4 ॥

হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ ।
কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ॥ 5॥

শংকর সুবন কেসরী নংদন ।
তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ॥ 6 ॥

বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর ।
রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ 7 ॥

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিযা ।
রামলখন সীতা মন বসিযা ॥ 8॥

সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা ।
বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥ 9 ॥

ভীম রূপধরি অসুর সংহারে ।
রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ॥ 10 ॥

লায সংজীবন লখন জিযাযে ।
শ্রী রঘুবীর হরষি উরলাযে ॥ 11 ॥

রঘুপতি কীন্হী বহুত বডাযী ।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভাযী ॥ 12 ॥

সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ ।
অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ॥ 13 ॥

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা ।
নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ 14 ॥

যম কুবের দিগপাল জহাং তে ।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ 15 ॥

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা ।
রাম মিলায রাজপদ দীন্হা ॥ 16 ॥

তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা ।
লংকেশ্বর ভযে সব জগ জানা ॥ 17 ॥

যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ 18 ॥

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী ।
জলধি লাংঘি গযে অচরজ নাহী ॥ 19 ॥

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ॥ 20 ॥

রাম দুআরে তুম রখবারে ।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ 21 ॥

সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ॥ 22 ॥

আপন তেজ সম্হারো আপৈ ।
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ 23 ॥

ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ ।
মহবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ 24 ॥

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা ।
জপত নিরংতর হনুমত বীরা ॥ 25 ॥

সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ ॥ 26 ॥

সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ 27 ॥

ঔর মনোরধ জো কোযি লাবৈ ।
তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ 28 ॥

চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা ।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিযারা ॥ 29 ॥

সাধু সংত কে তুম রখবারে ।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ 30 ॥

অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা ।
অস বর দীন্হ জানকী মাতা ॥ 31 ॥

রাম রসাযন তুম্হারে পাসা ।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ 32 ॥

তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ ।
জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ 33 ॥

অংত কাল রঘুপতি পুরজাযী ।
জহাং জন্ম হরিভক্ত কহাযী ॥ 34 ॥

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরযী ।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করযী ॥ 35 ॥

সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা ।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ 36 ॥

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাযী ।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নাযী ॥ 37 ॥

জো শত বার পাঠ কর কোযী ।
ছূটহি বংদি মহা সুখ হোযী ॥ 38 ॥

জো যহ পডৈ হনুমান চালীসা ।
হোয সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ 39 ॥

তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয মহ ডেরা ॥ 40 ॥

দোহা

পবন তনয সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয বসহু সুরভূপ্ ॥
সিযাবর রামচংদ্রকী জয । পবনসুত হনুমানকী জয । বোলো ভাযী সব সংতনকী জয ।

২. হনুমান চালীসা পাঠের অলৌকিক লাভ (Benefits)

নিয়মিত হনুমান চালীসা পাঠ করলে জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তার তালিকা দীর্ঘ:

১. ভয় ও দুশ্চিন্তা মুক্তি: ‘ভূত পিসাচ নিকট নহিঁ আবৈ’—অর্থাৎ নিয়মিত পাঠে কোনো নেতিবাচক শক্তি বা ভয় আপনার ক্ষতি করতে পারে না। ২. রোগ-ব্যাধি নিরাময়: দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৩. শনি দোষ থেকে মুক্তি: শনিদেবের কু-দৃষ্টি বা সাড়ে সাতির প্রভাব কমাতে হনুমান চালীসা অত্যন্ত কার্যকরী। 4. বুদ্ধি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের জন্য এটি পরম আশীর্বাদ, কারণ এটি স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগ বাড়ায়। ৫. গৃহশান্তি: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ দূর হয় এবং শান্তি ফিরে আসে।


৩. হনুমান চালীসা পাঠের সঠিক নিয়ম (Puja Vidhi)

সঠিক ফল পেতে নিচের নিয়মগুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন:

  • সময়: সকাল বা সন্ধ্যায় পাঠ করা যায়। মঙ্গলবার এবং শনিবার পাঠ করা সবচেয়ে ফলদায়ক।

  • শুদ্ধিকরণ: স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ রঙের পোশাক পরে পাঠ করা ভালো।

  • আসন: কাঠের পিঁড়ি বা উলের আসনের ওপর বসে উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসুন।

  • প্রদীপ: পাঠের সময় ঘি বা তিলের তেলের প্রদীপ এবং ধূপ জ্বালান।

  • ভোগ: সম্ভব হলে হনুমান জীকে গুড়-ছোলা বা লাড্ডু নিবেদন করুন।


💡 সম্পর্কিত নিবন্ধ: এগুলোও অবশ্যই পড়ুন


৪. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন ১. দিনে কতবার হনুমান চালীসা পাঠ করা উচিত? সাধারণত একবার বা তিনবার পাঠ করা যায়। তবে বিশেষ কোনো মানত থাকলে সাত বা এগারো বার পাঠ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ২. মহিলারা কি হনুমান চালীসা পাঠ করতে পারেন? হ্যাঁ, মহিলারা নিশ্চিন্তে হনুমান চালীসা পাঠ করতে পারেন। তবে হনুমান জীর মূর্তি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্ন ৩. অশুচি অবস্থায় কি পাঠ করা যায়? না, হনুমান জীর পূজা অত্যন্ত শুদ্ধতার দাবি রাখে। তাই শরীর ও মন শুদ্ধ রেখে পাঠ করাই বিধেয়।


৫. বিশেষ পরামর্শ

বিশেষ পরামর্শ: হনুমান চালীসা পাঠ করার পর শেষে প্রভু শ্রী রামের জয়ধ্বনি দিতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, যেখানে রাম নাম নেওয়া হয়, হনুমান জী সেখানে অদৃশ্যভাবে উপস্থিত থাকেন। পাঠের পর এক গ্লাস জল সামনে রেখে সেটি প্রসাদ হিসেবে পান করলে শরীরের পজিটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায়।


৬. উপসংহার

হনুমান চালীসা কেবল একটি স্তোত্র নয়, এটি আত্মিক শক্তির উৎস। জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে হনুমান জীর শরণাপন্ন হলে পথ নিশ্চয়ই পাওয়া যায়।

আশা করি Pujapath.net-এর এই তথ্য আপনার আধ্যাত্মিক যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। কমেন্টে “জয় বজরংবলী” লিখে আপনার ভক্তি প্রকাশ করুন!