Shri Bajrang Baan In Bengali

শ্রী বজরং বাণ (Shri Bajrang Baan In Bengali): লিরিক্স, পাঠের সঠিক নিয়ম এবং অমোঘ লাভ

ভূমিকা: নিশ্চয় প্রেম প্রতীতি তে, বিনয় করৈं সনমান… জয় শ্রী রাম! জয় বজরংবলী! হনুমান জীর ভক্তদের কাছে ‘হনুমান চালীসা’ যেমন জনপ্রিয়, তেমনি ‘বজরং বাণ’ হল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অস্ত্র। একে ‘বাণ’ বলা হয় কারণ এর প্রভাব লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। যখন জীবনের সমস্যাগুলো পাহাড়ের মতো হয়ে দাঁড়ায় এবং কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন বজরং বাণের শরণাপন্ন হওয়া শ্রেষ্ঠ উপায়। এতে হনুমান জীকে প্রভু শ্রী রামের শপথ দিয়ে তাঁর ভক্তের দুঃখ দূর করার আর্জি জানানো হয়।

আজ Pujapath.net-এর এই বিশেষ নিবন্ধে আমরা বজরং বাণের সম্পূর্ণ লিরিক্স বাংলায় প্রদান করব এবং এটি পাঠ করার সেই সব গোপন নিয়ম সম্পর্কে জানাব যা পালন করা প্রত্যেক ভক্তের জন্য আবশ্যিক।


১. বজরং বাণের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব (Significance)

বজরং বাণের মূল উদ্দেশ্য হল শত্রুদের বিনাশ, কঠিন রোগ থেকে মুক্তি এবং প্রাণের রক্ষা করা। এতে হনুমান জীকে ত্রেতাযুগে প্রভু রামকে দেওয়া তাঁর প্রতিজ্ঞা ও শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, যখন কোনো ব্যক্তি শনির সাড়ে সাতি, ধাইয়া বা রাহু-কেতুর ভয়ঙ্কর প্রকোপের মধ্য দিয়ে যান, তখন বজরং বাণ তাঁর জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি মানসিক ভয় এবং নেতিবাচক শক্তিকে মূল থেকে নির্মূল করে দেয়।


২. শ্রী বজরং বাণ লিরিক্স (Bajrang Baan Lyrics in Bengali)

ভক্তগণ, অত্যন্ত ভক্তি ও শুদ্ধ চিত্তে বজরং বাণ পাঠ শুরু করুন:

দোহা


নিশ্চয় প্রেম প্রতীতি,
বিনয় করি সম্মান।

তহি কে করজ সকল শুভ,
সিদ্ধ করেঁ হনুমান।।

চৌপাই


জয় হনুমন্ত সন্ত হিতকারী।
সুন লীজৈ প্রভু অরজ হামারী।।

জনকে কাজ বিলম্ব ন কীজে।
আতুর দৌরি মহাসুখ দীজে।।

জ্যয়সে কুদি সিন্ধু মহি পারা।
সুরসা বদন পৈঠি বিস্তরা।।

আগে জাঈ লঙ্কিনী রোকা।
মারেহু লাথ গই সুর লোকা।।

জয়ে বিভীষণ কো সুখ দীনহা।
সীতা নিরখি পরম পদ লীনহা।।

বাগ উজারি সিন্ধু মহঁ বোরা।
অতি আতুর যম কাতর তোরা।।

অক্ষয় কুমারা মারি সংহারা।
লুম লপেট লঙ্ক কো জারা।।

লহ সমান লঙ্ক জরি গই।
জয় জয় ধ্বনি সুরপুর মহঁ ভই।।

অব বিলম্ব কেহি করন স্বামী।
কৃপা করহু উর অন্তর্যামী।।

জয় জয় লক্ষন প্রান কে দাতা।
আতুর হোয় দুখ করহু নিপাতা।।

জয় গিরিধর জয় জয় সুখ সাগর।
সুর সমূহ সমরথ ভটনাগর।।

ওম হনু হনু হনু হনুমন্ত হঠীলে।
বৈরিহি মারূ বজ্র কী কীলে।।

গদা বজ্র লৈ বৈরিহি মারো।
মহারাজ প্রভু দাসা উবারো।।

ওঙ্কার হুঙ্কার মহাপ্রভু ধাবো।
বজ্র গদা হনু বিলম্ব না লাবো।।

ওম্ হ্রীঁ হ্রীঁ হ্রীঁ হনুমন্ত কপীশা।
ওম হুঁ হুঁ হুঁ হনু অরি উর শীশা।।

সত্য হোহু হরি শপথ পায়কে।
রামদূত ধরু মারু ধায় কে।।

জয় জয় জয় হনুমন্ত অগাধা।
দুঃখ পাবত জন কেহি অপরাধা।।

পূজা জপ তপ নেম অচারা।
নেহি জানত হো দাসা তুমহারা।।

বন উপবন মগ, গিরী গৃহ মাঁহী।
তুমহার বল হাম ডরপত নাহী।।

পাঁয় পরৌ কর জোরি মানাবৌ।
ইয়হি অবসর অব কেহি গোহরাবৌ।।

জয় অঞ্জনী কুমার বলবন্তা।
শঙ্কর সুবন ধীঁর হনুমন্তা।।

বদন করাল কাল কুল ঘালক।
রাম সহায় সদা প্রতিপালক।।

ভূত প্রেত পিশাচ নিশাচর।
অগ্নিবেতাল কাল মারীমর।।

ইনহেঁ মারু তোহি শপথ রামকী।
রাখু নাথ মর্যাদা নাম কী।।

জনক সুতা হরি দাস কহাবো।
তাকী শপথ বিলম্ব ন লাবো।।

জয় জয় জয় ধুনি হোত আকাশা।
সুমিরত হোত দুসহ দুঃখ নাশা।।

চরন স্মরণ করি জোরি মনাবোঁ।
য়হি অবসর অব কেহি গোহরাবৌঁ।।

উঠু উঠু চলু তোহি রাম দুহাই।
পায় পরৌ কর জোরি মনাই।।

ওম চং চং চং চং চপল চলন্তা।
ওম হনু হনু হনু হনু হনুমন্তা।।

ওম হং হং হঁংকা দেত কপি চঞ্চল।
ওম সং সং সহমি পরানে খল দল।।

অপনে জন কো তুরত উবারো।
সুমিরত হোয় আনন্দ হমারো।।

য়হ বজরঙ্গ বাণ জেহি মারে।
তহি কহো ফির কৌন উবারে।।

পাঠ করে বজরঙ্গ বান কী।
হনুমাত রক্ষা করে প্রান কী।।

য়হ বজরঙ্গ বান জো জাঁপে।
তাঁতে ভূত প্রেত সব কাপৈ।।

ধূপ দেয় অরু জপৈ হমেশা।
তাঁকে তন নহি রহে কলেশা।।

দোহা


প্রেম প্রতীতহি কপি ভজৈ,
সদা ধরৈ উর ধ্যান।

তেহি কে কারজ সকল শুভ,
সিদ্ধ করে হনুমান।।

৩. বজরং বাণ পাঠের সঠিক ও গোপন বিধি (Important Method)

বজরং বাণের পাঠ হনুমান চালীসার মতো প্রতিদিন সাধারণভাবে করা উচিত নয়। এটি অত্যন্ত উগ্র এবং শক্তিশালী পাঠ। Pujapath.net-এর এই নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলুন:

১. সংকল্প: এর পাঠ কেবল তখনই করুন যখন সমস্যা খুব গুরুতর। হাতে জল নিয়ে আপনার সমস্যা বলুন এবং হনুমান জীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। ২. সময়: রাতের সময় (রাত ৯টার পর) বা ব্রহ্ম মুহূর্ত এর জন্য শ্রেষ্ঠ। মঙ্গলবার বা শনিবার থেকে শুরু করা উত্তম। ৩. আসন ও বস্ত্র: লাল রঙের বস্ত্র পরিধান করুন এবং কুশ বা উলের আসনের ওপর বসুন। ৪. প্রদীপ: চামেলি তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং তাতে দুটি লবঙ্গ দিয়ে দিন। ৫. সাত্ত্বিকতা: পাঠের দিনগুলোতে পূর্ণ ব্রহ্মচর্য পালন করুন এবং আমিষ খাবার, রসুন-পেঁয়াজ ও নেশা থেকে দূরে থাকুন।


💡 সম্পর্কিত নিবন্ধ: এগুলোও অবশ্যই পড়ুন


৪. বজরং বাণ পাঠের ১৫+ অলৌকিক লাভ (Benefits)

নিয়মিত ও শ্রদ্ধাভরে সংকল্প নিয়ে পাঠ করলে নিম্নলিখিত ফল লাভ হয়:

১. শত্রু বাধা নাশ: দৃশ্য এবং অদৃশ্য শত্রুদের প্রভাব থেকে মুক্তি মেলে। ২. তন্ত্র-বাধা থেকে মুক্তি: জাদু-টোনা বা কু-নজরের আসর তক্ষণাৎ শেষ হয়। ৩. ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি: দুরারোগ্য ব্যাধিতেও এটি সঞ্জীবনী হিসেবে কাজ করে। ৪. শনি দোষ থেকে মুক্তি: সাড়ে সাতি ও ধাইয়ার কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়। ৫. ঋণ মুক্তি: আর্থিক সংকট দূর হয় এবং আটকে থাকা টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ৬. মানসিক ভয় দূর: রাতে অকারণে ভয় লাগলে এটি সাহস জোগায়। ৭. গ্রহ শান্তি: মঙ্গল, শনি এবং রাহুর অশুভ প্রভাব দূর হয়। ৮. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে তেজ ও ওজ বৃদ্ধি পায়। ৯. আটকে থাকা কাজ: আইনি জটিলতা বা জমি সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয় সমাধান হতে শুরু করে। ১০. চাকরি ও ব্যবসা: কর্মক্ষেত্রে আসা বাধা দূর হয় এবং উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। ১১. বিবাহ বাধা দূর: মঙ্গল দোষের কারণে বিবাহে দেরি হলে এটি অত্যন্ত ফলদায়ক। ১২. পাপ ক্ষয়: মনের শুদ্ধি ঘটে এবং পুরনো ভুলত্রুটির ক্ষমা মেলে। ১৩. ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি: মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তার সময় মনকে শক্তি দেয়। ১৪. শিশুদের সুরক্ষা: শিশুদের ভয় ও নজর লাগা থেকে বাঁচাতে এটি পাঠ করা হয়। ১৫. সাফল্য লাভ: প্রতিযোগিতামূলক কাজে বিজয় লাভ করতে সাহায্য করে।


৫. বিশেষ সতর্কতা (A Warning for Readers)

বজরং বাণ পাঠের ক্ষেত্রে পাঠকদের এই সতর্কতাগুলো জানানো খুব জরুরি:

  • কারো অনিষ্টের জন্য নয়: বজরং বাণের প্রয়োগ কখনও কারো ক্ষতি করার জন্য করবেন না।

  • স্বার্থপরতা বর্জন: হনুমান জীকে এখানে ‘রাম শপথ’ দেওয়া হয়, তাই ছোটখাটো স্বার্থে এটি পাঠ করবেন না।

  • অসহায় অবস্থায়: যখন আর কোনো পথ খোলা থাকে না, তখনই এর সাহায্য নিন।


৬. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

প্রশ্ন ১. বজরং বাণ কি প্রতিদিন পাঠ করা যায়? শাস্ত্র মতে, এটি বিশেষ কোনো সমস্যার সমাধানের জন্যই পাঠ করা উচিত। দৈনিক পূজার জন্য হনুমান চালীসা পাঠ করাই সর্বোত্তম।

প্রশ্ন ২. মহিলারা কি বজরং বাণ পাঠ করতে পারেন? হ্যাঁ, মহিলারা শুদ্ধাচারে বজরং বাণ পাঠ করতে পারেন। তবে হনুমান জীর বিগ্রহ বা মূর্তি স্পর্শ করবেন না।

প্রশ্ন ৩. পাঠের পর কী করা উচিত? পাঠ শেষে হনুমান জীকে বুন্দিয়া বা গুড়-ছোলার ভোগ নিবেদন করুন এবং প্রভু রামের নাম জপ করুন।


৭. বিশেষ পরামর্শ

বিশেষ পরামর্শ: বজরং বাণ পাঠ করার পর হনুমান জীকে ‘সিন্দুর’ নিবেদন করার সংকল্প নিন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পাঠের সময় নিজের সামনে একটি তামার পাত্রে জল রাখুন এবং পাঠ শেষে সেই জল সারা ঘরে ছিটিয়ে দিন এবং নিজেও কিছুটা পান করুন। এতে ঘরের নেতিবাচক শক্তি তক্ষণাৎ দূর হয়ে যায়। মনে রাখবেন, পাঠ করার সময় আপনার মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে হওয়া আবশ্যক।


৮. উপসংহার: সংকটমোচনের পরম শক্তি

বজরং বাণ এমন এক খড়গ যা ভক্তদের জীবনের সংকট এক আঘাতেই কেটে ফেলে। আপনার বিশ্বাস যদি অটল থাকে, তবে বজরংবলী স্বয়ং আপনার রক্ষা করতে ছুটে আসবেন।

আশা করি Pujapath.net-এর এই তথ্য আপনার জীবনের সকল ‘অধর্ম’ দূর করে ‘ধর্ম ও বিজয়’ নিয়ে আসবে। কমেন্টে “জয় বজরংবলী” লিখতে ভুলবেন না!